বৃহষ্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

বিশ বছর পর বাজেট প্রণয়নে বিএনপি


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০-৬-২০২৬ রাত ১০:৪৫

বাজেট প্রণয়নে সফল অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন বিএনপির নেতা মরহুম এম সাইফুর রহমান। অর্থনৈতিক সংস্কার, বিশ্বায়নের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির সংযোগ স্থাপন এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি চালুর অন্যতম রূপকার হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়।

জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট উপস্থাপনের অনন্য রেকর্ডও রয়েছে তার দখলে। ২০০৬ সালের ৬ জুন বিএনপি সরকারের শেষ বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন এম সাইফুর রহমান।

এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অতিক্রম করে প্রায় দুই দশক পর আবারও বিএনপি সরকারের বাজেট আসতে যাচ্ছে। এবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার প্রথম বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। 

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন তিনি। বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ফলে প্রায় ২০ বছর পর বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে বিএনপির যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

জিয়ার হাত ধরে সূচনা

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ২৬ জুন প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি টানা তিনটি বাজেট ঘোষণা করেন। ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে ১ হাজার ৯৮৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা এবং ১৯৭৮-৭৯ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন তিনি।

১৯৭৯ সালের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মির্জা নূরুল হুদাকে অর্থমন্ত্রী নিয়োগ দেন। তিনি ১৯৭৯-৮০ অর্থবছরের জন্য ৩ হাজার ৩১৭ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন।

সাইফুর রহমানের উত্থান
জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিচারপতি আবদুস সাত্তারের আমলে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এম সাইফুর রহমান। ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ৩ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন তিনি। পরবর্তী ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে তার উপস্থাপিত বাজেটের আকার ছিল ৪ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবারও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে ১৬ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনের মাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সংস্কার, বাণিজ্য উদারীকরণ এবং করব্যবস্থার আধুনিকীকরণ। নব্বইয়ের দশকে দাতানির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করেন।

বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রবর্তন তার অন্যতম বড় অবদান হিসেবে বিবেচিত হয়। সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্যে তিনি দেশে প্রথমবারের মতো ভ্যাট চালু করেন।

এ ছাড়া ২০০৩ সালে টাকা ও মার্কিন ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করে দেন, যা সে সময় একটি সাহসী ও সফল অর্থনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসিত হয়।

Parisreports / Parisreports