হরমুজ প্রণালীতে স্বস্তির হাওয়া
দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্বস্তির হাওয়া বয়ে যাচ্ছে হরমুজ প্রণালীতে। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত এই জলপথ নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠছেন দেশের শিল্প ও রপ্তানি খাতের উদোক্তারা।
জানা গেছে, গত ১৬ জুন সংঘাতে লিপ্ত দুই দেশের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার ইঙ্গিত আসে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) যুদ্ধবন্ধের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আভাস দিয়েছে।
পরে এই সমঝোতার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী চালুর ঘোষণা দিয়ে বিশ্বের জাহাজগুলোকে ‘ইঞ্জিন চালু’ করতে বলার পর থেকেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্বস্তির আবহ নামিয়ে এনেছে।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রণালীর দূরত্ব অনেক বেশি হলেও অর্থনীতিতে এর প্রভাব অনেক। কেননা বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রা উপার্জনের সবচেয়ে বড় খাত রপ্তানিশিল্প এই প্রণালীর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রপ্তানি পণ্যের সিংহভাগই এই প্রণালী দিয়ে জাহাজে করে ক্রেতার হাতে পৌঁছায়। আবার এই প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহসহ অন্যান্য কাঁচামাল-আমদানি রপ্তানি স্বাভাবিক থাকলে তা দেশের শিল্পখাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিক ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে, তাতে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোণঠাসা করতে সেখানে অবরোধ জারি করলে স্থবির হয়ে পড়ে বিশ্বের অর্থনৈতিক চাকা। সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ ব্যবস্থা) ভেঙে পড়ায় জ্বালানি সংকট এবং আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতিতে হাঁসফাঁস করছিল উন্নত থেকে শুরু করে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ চাহিদার জন্য প্রয়োজনীয় মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল ও সিংহভাগ অংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করে থাকে। অন্যদিকে, ভৌগোলিক কৌশলগত অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত ও পরিবাহিত জ্বালানির একটি প্রধান অংশ সারা পৃথিবীতে সরবরাহ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি চূড়ান্ত ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা কেটে যাবে এবং জ্বালানি তেলের বাজারে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার অবসান ঘটবে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম স্থিতিশীল ও সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত করবে।
ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ব্যারেল ১০০ ডলার থেকে কমে বিক্রি হচ্ছে ৮৪ ডলার করে। এদিকে ইউএস ট্রেড অয়েল কমেছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ আর বিক্রি হচ্ছে ৮১ ডলার করে।
তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। কম দামে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি পাওয়ার কারণে দেশের ভারী কলকারখানা পরিচালনা, টেক্সটাইল মিল ও উৎপাদনমুখী শিল্পের চাকা সচল রাখা সহজ হবে। এছাড়া বাংলাদেশের কৃষি খাতের একটি বড় অংশ সেচ কাজের জন্য ডিজেল ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। উৎপাদন খরচ কমলে বিদ্যুৎ ও সেচের ব্যয় কমবে, যার ফলে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
Parisreports / Parisreports
রিয়াদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ
স্ত্রী হত্যায় অভিযুক্ত হন স্বামী
হুতিদের মোকাবেলায় সামরিক সহায়তা চাইল সৌদি
প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল স্বর্ণখনির সন্ধান পেল চীন
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১
ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
এক হাজার টন বিস্ফোরক দিয়ে ইসরায়েলের হামলা
বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা
ইসরায়েলি সেনাকে বিজ্ঞাপনে রেখে বিপাকে অ্যাডিডাস
নিজেদের ছেলে মনে করে অন্যের মরদেহ দাহ
ভারতের রাজধানীতে বহুতল ভবন ধস, বহু হতাহতের শঙ্কা
বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে আফগানিস্তানে আইন পাস